আগের পাঠে আমরা উদ্যান ফসল সম্পর্কে জানতে পেরেছি, এ পাঠে আমরা মাঠ ফসল সম্পর্কে জানব। মাঠ ফসলকে ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে ছয় ভাগ করা যায়, যথা-
১। দানা ফসল- ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি।
২। ডাল ফসল- মসুর, মুগ, ছোলা, খেসারি ইত্যাদি।
৩। তেল ফসল- সরিষা, তিল, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
৪। আঁশ ফসল পাট, তুলা, মেস্তা ইত্যাদি।
৫। চিনি ফসল- আখ, সুগারবিট ইত্যাদি।
৬। পশুখাদ্য (Fodder crops) ফসল- ফেলন, গিনি, প্যারা, নেপিয়ার ইত্যাদি।

মাঠ ফসলের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা উদ্যান ফসল থেকে এদেরকে আলাদা করেছে। মাঠ ফসল বৃহত্তর পরিসরে চাষাবাদ করা হয়। উদ্যান ফসলের মতো নিবিড়ভাবে চাষাবাদের প্রয়োজন হয় না। মানুষ ও পশুর খাদ্যের জন্য চাষ করা হয়। দ্রুত পচনশীল নয়।
মাঠ ফসলের পরিচয় জানার পর, আমরা নিশ্চয় এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে অনুমান করতে পারছি। দানা, ডাল ও তেল ফসল আমাদের খাদ্যশস্য ফসল। দানা জাতীয় ফসলের মধ্যে ধান, গম, ভুট্টা মানুষের প্রধান খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ডাল জাতীয় ফসল আমাদের আমিষের চাহিদা মেটায়। বিভিন্ন তেল জাতীয় ফসল থেকে আমরা ভোজ্যতেল পাই।
গম, ভুট্টা ও ডাল ফসল পশু, পাখি ও মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য প্যারা, গিনি, নেপিয়ার, খেসারি চাষ করা হয়। এগুলো সবুজ অবস্থায় খাওয়ানো হয়। এর ফলে বাণিজ্যিকভাবে পশু, পাখি ও মাছ চাষ প্রসার লাভ করেছে।
আখ, সুগারবিট থেকে চিনি তৈরি করা হয়। আমাদের দেশে আখচাষিরা চিনি কলে আখ সরবরাহ করে নগদ অর্থ পেয়ে থাকেন।
আঁশ ফসল থেকে সুতা, কাপড়, দড়ি, বস্তা, কার্পেট ইত্যাদি তৈরি হয়। আমাদের দেশে আঁশ ফসলের মধ্যে পাট অন্যতম। দেশে-বিদেশে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাট ও পাটজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকি।
| কাজ: এখানে বলা হয়নি এমন কয়েকটি মাঠ ফসলের নাম লেখ ও ব্যবহার উল্লেখ কর। |
নতুন শব্দ: দানা ফসল, আঁশ ফসল, পশু খাদ্য ফসল।
Read more